এখন যখন শুধু আগুন জ্বলে, ধু ধু আগুন-
জ্বলে কেবল চোখের পাতা, শুকনো পাতা দারুণ
অবিশ্বাসে, নাভিশ্বাসে শুকনো তালু, জীবন
শুকায়ে যায়, ফুরায়ে যায়, তবু উপায় তখন─
বক্ষমাঝে যক্ষরূপী রক্ষাকারী আমার─
চিলেকোঠার সেপাই, আমার চিলেকোঠার সেপাই
চিলেকোঠার সেপাই আমার, চিলেকোঠার সেপাই।

পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং─ তখন জীবন ঊষায়,
ক্ষীণ ক’টি তারার আলো তখনও কী আশায়
অপেক্ষাতে। আজি প্রাতে সূর্য ওঠা, আহা!
বীরেন্দ্র আর বাণীকন্ঠে প্রথম মহালয়া─
সেই তো প্রথম চায়ে চুমুক মায়ের সঙ্গে আমার
চিলেকোঠার সেপাই জানে, চিলেকোঠার সেপাই
(শুধু) চিলেকোঠার সেপাই জানে চিলেকোঠার সেপাই।

প্রথম যেদিন নাট্যাভিনয়, মঞ্চ হল বাঁধা
চিলেকোঠায়, ─ রঙিন কাপড়, মাঝখানটি শাদা,
আরও রঙিন মুখগুলো সব, চার কিংবা পাঁচের
শিশুসাথী, যত্ন ক’রে অমল সুধায় সাজে─
অলীক যত নাট্যরঙ্গ অনুষঙ্গ আমার
চিলেকোঠার সেপাই জানে চিলেকোঠার সেপাই
চিলেকোঠার সেপাই জানে, চিলেকোঠার সেপাই।

ধ্রুপদ কিংবা ব্রহ্মগানে তীব্র শুদ্ধ রেখাব,
এলিঅটের কাব্য কিংবা ইলিয়াসের খোয়াব
মাথায় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচ্চাবচ পথে
প্রাপ্তি থেকে অপ্রাপ্তি আর ভগ্ন মনোরথে
ক্লান্ত যখন ধ্বস্ত জীবন, আগলে রাখে সেপাই─
চিলেকোঠার সেপাই, আমার চিলেকোঠার সেপাই।।

Leave a comment